অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কলকাতায় উদ্বোধন হলো বাংলাদেশের আধুনিক ভিসা প্রদান সেন্টার


বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা। (ছবি- অ্যাডোবে স্টক)

কলকাতায় বাংলাদেশের প্রথম ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারের উদ্বোধন হল বৃহস্পতিবার। সল্টলেক সেক্টর ফাইভে এই আবেদন কেন্দ্র থেকে প্রতি সপ্তাহের সোম থেকে শুক্রবার আবেদনকারীরা সকাল ন'টা থেকে বিকেল তিনটে পর্যন্ত নিজেদের আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং দুপুর ১'টা থেকে সন্ধ্যে ছ'টা পর্যন্ত।ভিসা ছাড়পত্র সহ নিজেদের পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।

ভিসা প্রসেসিংয়ের খরচ ধার্য করা হয়েছে জিএসটি সহ ৮২৬ রুপি। বর্তমানে বাংলাদেশের ভ্রমণার্থীদের ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদন খরচে সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই এই ফি ধার্য করা হয়েছে বলে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়েছে।

এদিন ঢাকা থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, "কলকাতায় বাংলাদেশে উপ হাইকমিশন বহির্বিশ্বে স্থাপিত সব বাংলাদেশ-মিশনের মধ্যে সর্বাধিক ভিসা ইস্যুকারী মিশন। ভারতীয় নাগরিকদের উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কলকাতা মিশনে ভিসা আউটসোর্সিং এর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যেখানে ক্রমবর্ধমান সেখানে সময়োপযোগী এই সংস্কারের প্রয়োজন অনুভূত হয়। তাই ভারতে এই প্রথমবার খোলা হল নতুন বাংলাদেশ ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টার।"

প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকায় তিন দিনের সফরে গিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এদিন ঢাকা থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ভিসা সেন্টার উদ্বোধন দুই দেশের সম্পর্ককে মজবুত করার আরও একটি দৃষ্টান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।

কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-দূতাবাস হল বহির্বিশ্বে প্রথম দূতাবাস যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই নতুন দেশ ও সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তখন এই উপ-দূতাবাস ছিল পাকিস্তানের উপ-দূতাবাস। কিন্তু তৎকালীন উপ-দূতাবাসের কর্মীরা সকলেই বিদ্রোহ ঘোষণা করে চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে দেশের বাইরে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের কর্মী হিসেবে নিজেদেরকে যুক্ত করেন

১৩ হাজার বর্গফুটের সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারটি সল্টলেক সেক্টর ফাইভ এর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। কলকাতায় এটি হবে শহরের বৃহত্তম ভিসা আবেদন কেন্দ্র। আবেদনকারীদের সুবিধার্থে এই ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারে থাকছে ভিসার আবেদনপত্র পূরণের সহায়তার জন্য হেল্প ডেস্ক, ফটো ডেস্ক, ফটোকপি পরিষেবা ডেস্ক, প্রাইভেট কুরিয়ার পরিষেবা, ইলেকট্রনিক কিউইং মেশিন, ফ্রি ওয়াইফাই, ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের সুবিধা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতায় কর্মরত বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান। তিনি বলেন, "আজ বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে এবং বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী ৫০ বছর পূর্তির মাহেন্দ্রক্ষণে কলকাতায় বাংলাদেশ ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টার উদ্বোধন করতে পেরে আমরা সত্যিই খুবই আনন্দিত। এর মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকরা উন্নত পরিষেবা পাবেন। যা আমাদের দীর্ঘদিনের একটি প্রচেষ্টা ছিল।"

উপদূতাবাসের প্রেসসচিব রঞ্জন সেন জানিয়েছেন, আগামী সোমবার, ২০ ডিসেম্বর থেকে এই ভিসা সেন্টারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। বর্তমানে টুরিস্ট ভিসা বাদে অন্যান্য ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে। বাংলাদেশ সরকারের পরবর্তী ঘোষণা সাপেক্ষে টুরিস্ট ভিসা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

XS
SM
MD
LG