অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

প্রত্যেকের একান্ত প্রার্থনা আসছে বছর যেন কিছু সুসংবাদ ও সুদিন বয়ে আনে 


দু'হাজার কুড়ি সালের শুরুতে সারা পৃথিবীর সব দেশের সব মানুষের মতোই পশ্চিমবঙ্গবাসীরাও দু'হাত তুলে নতুন বছরকে আবাহন করেছিল। কিন্তু তার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই করোনা ভাইরাসের আক্রমণে সব আনন্দ মিলিয়ে গেল। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দিকে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় কিছুটা কম থাকলেও আস্তে আস্তে সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং সম্পূর্ণ লকডাউন করেও তাকে পুরো রুখতে পারা যায়নি। তবে সরকার অসম্ভব গুরুত্বের সঙ্গে রোগটিকে নিয়ে তার সুষ্ঠু চিকিৎসার ব্যবস্থা, পরিচর্যার ব্যবস্থা, শুশ্রূষার ব্যবস্থা করে গিয়েছে। বেশ কয়েকটি হাসপাতালে কোভিডের আলাদা ওয়ার্ড রাখা হয়েছে। বিশেষ করে দু'টি সরকারি হাসপাতালে, বেলেঘাটার ইনফেকশাস ডিজিজ বা আইডি হাসপাতাল এবং দক্ষিণ কলকাতার বাঙ্গুর হাসপাতাল পুরোপুরি কোভিড আক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট করে রাখা হয়েছে। সেখানে রোগীদের চিকিৎসা ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। তা ছাড়া স্বাস্থ্য দপ্তরের লোকেরা আক্রান্ত প্রতিটি ব্যক্তির বাড়িতে ফোন করে করে খবর নিয়েছেন এবং তাঁদের বাড়ি স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় পৌরসভা থেকে আক্রান্তদের বাড়িতে হোম ডেলিভারির খাবার পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা, হাসপাতালে ভর্তি করা এবং অন্যান্য যে কোনো সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এরকম সরকারি ব্যবস্থা অন্তত এর আগে কখনও দেখা যায়নি বললেই হয়। করোনার প্রকোপ যখন তুঙ্গে, সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি হিন্দুর সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা পড়েছিল, সেই সঙ্গে কালীপুজো, দেওয়ালি‌। কিন্তু উৎসবের এই সময়টা হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে অত্যন্ত সংযমের সঙ্গে পালিত হয়েছে। কোনো পূজামণ্ডপের ভেতরে বেশি লোক ঢুকতে পারেননি। দর্শকদের অনেক দূর থেকে প্রতিমা দর্শন করতে হয়েছে। বিসর্জনও হয়েছে সব রকম জাঁকজমক বাদ দিয়ে। ঈদ এবং আরো কিছু ধর্মীয় অনুষ্ঠান যথেষ্ট সংযত থেকে পালিত হয়েছে। কিন্তু বড়দিনের সময় খ্রিস্টানরা যদিও খুবই নীরবে নিজেদের মতো করে যিশুখ্রিস্টের জন্মদিনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেছেন কিন্তু কলকাতা এবং মফস্বলের আমোদ পিপাসুু জনতা করোনার বিধিনিষেধ সব উড়িয়ে দিয়ে ভিড় করেছে। দেখে শুনে কলকাতা হাইকোর্ট আজ আবার রায় দিয়েছেে, নতুন বছরের উৎসব নিউ ইয়ার্স ইভ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পালনের ব্যবস্থা করার দিকে প্রশাসন যেন নজর রাখে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশ কর্তাদের হাইকোর্ট এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছে আদালতের রায় মেনে চলার ব্যবস্থা করতে।

please wait

No media source currently available

0:00 0:04:23 0:00
সরাসরি লিংক

এই মারণ রোগের মধ্যেই ভোটের দামামা বেজে উঠেছে। আগামী বছর এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন হবে। পশ্চিমবঙ্গের উপর এখন বিজেপির নজর পড়েছে, যে ভাবেই হোক এই রাজ্য দখল করতে হবে। তৃণমূলও শাসন ক্ষমতা বজায় রাখতে মরিয়া হয়ে গিয়েছে। এই দুই পার্টির রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এখন তুঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছেন। তৃণমূল সরকারের অভিযোগ, রাজ্যপাল কেন্দ্রীয় সরকারের এবং শাসক দলের হয়ে কাজ করছেন। রাজ্যপালের পাল্টা যুক্তি, তিনি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র। একই রকম সংঘর্ষ শুরু হয়েছে বিশ্বভারতীর উপাচার্যের বিভিন্ন নির্দেশকে কেন্দ্র করে। উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী একের পর এক এমন সব নির্দেশ দিচ্ছেন যা শান্তিনিকেতনের পুরনো আশ্রমিকদের দিশাহারা অবস্থায় ফেলে দিচ্ছে। এই নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গেও তাঁর দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠা করা বিশ্ববিদ্যালয় বিজেপি কব্জা করার চেষ্টা করছে এবং তারা অমর্ত্য সেনের মতো শ্রদ্ধেয় মানুষকেও অপমান করতে ছাড়ছে না। এর মধ্যেই তৃণমূল থেকে বেশকিছু ছোট বড় নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। রাজনৈতিক এই উত্তপ্ত পরিবেশের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ দুজন সুসন্তানকে হারিয়েছে। ভারতরত্ন উপাধিতে সম্মানিত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় এবং দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এই অবস্থায় সকলের মতো এই রাজ্যের অধিবাসীদেরও একান্ত প্রার্থনা, আসছে বছর যেন অন্তত কিছু সুসংবাদ ও সুদিন বয়ে আনে।

XS
SM
MD
LG